বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭


মুক্তিযুদ্ধে নারী অংশগ্রহণ নিয়ে এখনই কাজ করতে হবে


আমাদের অর্থনীতি :
10.03.2017

উম্মুল ওয়ারা সুইটি: স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে স্থান পায়নি। যা পেয়েছে তাহলো নির্যাতনের ইতিহাস। মাঝে মাঝে দু/একটি নাটক সিনেমায় নারীদের সহযোগিতার বিষয়টি দেখা যায়। কিন্তু সেখানেও খুব যতœ আছে বলে মনে হয় না। তাই একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নারীর অংশগ্রহণ সঠিকভাবে উপস্থাপিত না হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পূর্ণ হবে না।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসির মামুন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশ ছিল সুস্পষ্ট। কিন্তু ইতিহাসে বিষয়টি সেভাবে স্থান পায়নি। শুধু নারীই নয়-মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেখানে বড় একটি গ্যাপ হলো নারীর প্রসঙ্গ। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশের যে পরিস্থিতি ছিল তাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলাই ছিল দুঃসাহসের। কিন্তু এখন ইতিহাসের কাজটা গুরুত্ব দিয়ে করা উচিত। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর কিছুদিন পরে দ্বিতীয় প্রজন্মের কাছ থেকে জানতে হবে। এখনো স্মৃতি থেকে অনেক কিছুই মুছে গেছে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে। তাই এখনই সময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা।

মানবাধিকার নেত্রী ড. আরমা দত্ত বলেন, ইতিহাসের কাজটা হয় খুব নিখুঁত। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে। তাই ইতিহাসটাকে এখন ঝালাই করে নেওয়ার সময়। তিনি বলেন, অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা আছেন। আমরা তাদের চিনি না। ট্রেনিং করেছেন এবং বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছেন। একই কাজের জন্য পুরুষ যদি মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেতে পারেন, তাহলে নারী নয় কেন? আমার মনে হয়, দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন এমন নারী খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রত্যেক নারী এই ইস্যুতে পরিবারের রাজাকার সদস্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. হাসান মাহমুদ বলেন, আমি নিজের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান নিয়ে কাজ করেছি। আমি দেখেছি, কিভাবে এদেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের খাবার দিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন এবং সেবা করেছেন। এজন্য কত নারীকে জীবন ও সম্ভ্রম দিতে হয়েছে তা আমরা জানি না। নিজের সন্তানকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য গুছিয়ে দিয়েছেন। সেসব নারীর কি উপহার হবে? নারীর অংশগ্রহণ আমরা দেখি শুধুই নির্যাতিতা হিসেবে। তাদের বীরত্ব গাঁথা বলে খুব কমই প্রকাশ পাচ্ছে। তাই প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এসব তথ্য এখনই সংগ্রহ করা উচিত।