বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭


বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক : আইএমএফ


আমাদের অর্থনীতি :
10.03.2017

জাফর আহমদ: খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেয় সংস্থাটি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সফররত আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান ব্রায়ান অ্যাটকিন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ বন্ধে সরকারি ব্যাংকগুলোতে নজরদারি ও তদারকির পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণে ব্রায়ান অ্যাটকিনের নেতৃত্বে আইএমএফ-এর ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসে। ১১ দিনের এই সফরে প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেই সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রায়ান অ্যাটকিন বলেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রির কারণে লাভের পরিবর্তে সরকারের ব্যয় আরও বাড়ে। বাংলাদেশ সরকার সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ নিচ্ছে এতে উল্টো সরকারের ব্যয় বাড়ছে। এর বদলে শেয়ার মার্কেট থেকে বা বন্ড মার্কেট চালু করে সেখান থেকে সরকারকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট এখনও জনপ্রিয় নয়। এই মার্কেটকে বিনিয়োগ বান্ধব করে সরকার বন্ড ছাড়লে জনগণ বন্ড কিনতে উৎসাহিত হবে। সেই টাকা থেকে সরকার ঋণ নিতে পারে। এতে সরকারের পাশাপাশি জনগণও উপকৃত হবে।

সরকার আগামী ১ জুলাই ভ্যাট আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে। এজন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ উদ্যোগের ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে, একইসঙ্গে এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্বও বাড়বে। এর পাশাপাশি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলটির অপর দুই সদস্যসহ বাংলাদেশে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেলা কায়েন্দেরাও উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতে সুদ হার নেমেছে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশেরও নিচে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনই কমছে আমানতে সুদ হার। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে অতিরিক্ত সুদ দিতে গিয়ে সরকারকেও চাপে থাকতে হচ্ছে। সম্পাদনা: এনামুল হক