বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » লিড ২ » রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ
    পাটে আয় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি,


রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ
পাটে আয় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি,


আমাদের অর্থনীতি :
10.03.2017

শায়েখ হাসান: চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই- ফেব্রুয়ারি মেয়াদে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মদ্র্রা আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ১৭২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যা এ সময়ের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ  বেড়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।

এতে আরো জানানো হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৬২ কোটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ৯ লাখ ডলার।

ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার  চেয়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল।

চলতি বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ  বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ২৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৮ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে পাটের অন্যান্য দ্রব্য রপ্তানিতে ৩  কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের রপ্তানি আয় ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে। সম্পাদনা: রাশিদ