সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭


ভর্তুকি দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চালানো সঠিক না


আমাদের অর্থনীতি :
04.06.2017

 

অধ্যাপক আবু আহমেদ

 

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তুকি দেওয়ার রীতি বেশ পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দেওয়া ঠিক নয়। অনেক আগেই ভর্তুকি দেওয়ার প্রথাটা বন্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু দেখা যায় ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ হয়নি। তারপরও আমরা দেখি, প্রতিবছরই সরকার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বাজেটের আকার বাড়ার কারণে ভর্তুকির বিষয়টা ততটা উদ্বেগজনক না হলেও সরকারকে কার্যকরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে করে ভর্তুকি কমিয়ে এনে লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা যায়। আর তাই লাগামটা এখনই টানতে হবে।

লোকসানে আছে এ রকম রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার প্রতিবছর ভর্তুকিও দেয়। আবার ভর্তুকি দেওয়া হলেও লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের পরিমাণ কমাতে পারছে না। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাত। এ বছর ব্যাংক খাতের ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো যেখানে সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারত, সেখাানেও প্রতিবছর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। জনগণের করের এত টাকা ভর্তুতি কেন দিতে হবে? কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি করেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি বরং অবনতি হয়েছে।

সরকারকে বুঝতে হবে, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারবে না। সরকার ইচ্ছা করলে সেগুলোকে বিক্রি করে দিতে পারে। আর এই ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি মালিকানা বা শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিক্রি করে দিতে পারে। মাঝখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো বিক্রি না হওয়ার পেছনে সরকারের কিছু মহল এর সঙ্গে জড়িত।

লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি মালিকানায় রেখে বা জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান চালানো উচিত হবে কিনা এটা নির্ভর করবে সরকারের দৃঢ়তার উপর। এ বিষয়ের পক্ষে কোনো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই।

যেসব প্রতিষ্ঠান চলছে না, সেগুলোকে আমরা কেন জোরপূর্বক চালাচ্ছি? এ বিষয়ে সরকার কেন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করল না? জনগণের ভোগান্তি বছরের পর বছর বাড়ছেই। ফলে ভর্তুকি দিয়ে লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো যুক্তি নেই। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির আখড়া বেশি। এসব প্রতিষ্ঠান থাকলে দুর্নীতি থাকবেই। কোনো সরকারেই এ দুর্নীতি রোধ করতে পারেনি। ভবিষ্যতে পারবে বলেও মনে হয় না। বিশেষ করে ব্যবস্থাপনা সিস্টেম পরিবর্তন আনতে পারলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব হবে। আর তা করতে গেলে বাধা আসবে। ফলে সরকারও খুব একটা দেখা বা না দেখার ভান করে থাকে। আর সরকারের একটা মহল আছে সবসময় এ ভর্তুকির পক্ষে সাফাই গাইতে থাকে। পুরো প্রক্রিয়াটা জটিল। এ ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে একটু সময় লাগবে।

পরিচিতি: অর্থনীতিবিদ

মতামত গ্রহণ: বায়েজিদ হোসাইন

সম্পাদনা: আশিক রহমান