সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » লিড ২ » নির্বাচন নিয়ে চাপ বাড়ছে
    আওয়ামী লীগও চায় বিএনপির অংশগ্রহণ


নির্বাচন নিয়ে চাপ বাড়ছে
আওয়ামী লীগও চায় বিএনপির অংশগ্রহণ


আমাদের অর্থনীতি :
04.06.2017

হুমায়ুন কবির খোকন : ২০১৮ সালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিদেশি চাপ বাড়ছে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। নির্বাচনের রোডম্যাপ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তৎপরতা শুরু করেছে বিদেশি কূটনীতিকরা। একদিকে নির্বাচন কমিশন অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিদেশি কূটনৈতিকরা। নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বৈঠক শুরু করবে ইসি। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা, দল ও নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশি-আন্তর্জাতিক চাপের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, এটা ধরে নিয়েই নির্বাচনি কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে তৃণমূল নেতাদের কেন্দ্র থেকে দলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলের বর্তমান এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন এলাকায় কাজ করছেন। বলছেন, নৌকার ওপর ভরসা রাখার জন্য। আওয়ামী লীগ নেতাদের আশা, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। এবার তারা গতবারের মতো ভুল করবে না। বিএনপিও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। দলের নেতাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের নেতারাও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং দলের পক্ষে ভোটও চাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন বিদেশি কূটনৈতিকরা। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ দাতা ও বিদেশি সংস্থাগুলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু দেখতে চায়। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা সাক্ষাৎ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা একাদশ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানারও চেষ্টা করেন।

সূত্রমতে, আগামী বছর ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বর্তমান কমিশনের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগে সংসদ নির্বাচনের অন্যতম পাঁচটি অনুষঙ্গকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ধরে খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির অংশগ্রহণ না করায় এবং নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা না থাকায় কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ইসিকেই শক্তিশালী ভূমিকায় দেখতে চায় তারা। সূত্র জানায়, ইসিকে শক্তিশালী করতে দাতা সংস্থা ও প্রভাবশালী একাধিক দেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট গত ৩১ মে দেখা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে। বৈঠকে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে সিইসি ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত একমত হয়েছেন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হবে না। ১৮ মে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। পরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু দেখতে চায় ভারত। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচনে যে কোনো কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। গত ১২ মার্চ নতুন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরওয়ে ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ডেমোক্রেটিক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে জ্বালাও-পোড়াও এর রাজনীতি করে ভুল করেছে। এবার সেই ভুল আর করবে না। আওয়ামী লীগ সব সময়েই সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সেই আশা বিএনপিও করে। কিন্তু এ নির্বাচনে বড় বাধা প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রথমেই বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপ হওয়া প্রয়োজন। এ সংলাপে অন্য দলও থাকতে পারে। বিদেশিরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যে তৎপরতা শুরু করেছে এবং সিইসিও যে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন তা, ইতিবাচক।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। রাজনৈতিক হানাহানি দ্বন্দ্ব থাকবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ দেশ দেখতে চাই।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে সেই আশবাদ আমাদের। যাতে ইসিকে নিয়ে পক্ষপাতের কোনো অভিযোগ না উঠতে পারে, সেভাবেই ইসি কাজ করবে। বিদেশিরাও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়, এটি একটি ভাল দিক। সম্পাদনা : শাহানুজ্জামান টিটু