বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭


আমাদের জীবনে প্রার্থনার অংশীদার মা মারিয়া


আমাদের অর্থনীতি :
29.10.2017

এলড্রিক বিশ্বাস

 

এ বছর পালিত হচ্ছে পর্তুগালে মা মারিয়ার দর্শন দানের শতবর্ষ পূর্তি (১৮১৭-১৯১৭)। মা মারিয়া আমাদের অনেকেরই জিবনে প্রার্থনার আশির্বাদের অংশীদার। তাঁর কাছে প্রার্থনা করে অনেকেই ফল পেয়েছেন। মানুষ যখন বেশী বেশী সমস্যায় থাকে তখন তার প্রার্থনা ও আবেদনের দিকটি বেড়ে যায়। প্রতিদিন কোটি কোটি ভক্ত প্রার্থনা করে, যাচ্না করে মা মারিয়ার কাছে।

মা মারিয়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দর্শন দিয়েছেন, বাণী দিয়েছেন ও তা বাস্তবায়িত হয়েছে। মা মারিয়া পর্তুগালের ফাতিমায় বহুবার দেখা দেন। তিনি যে বাণী রাখেন তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নাস্তিকদের মন পরিবর্তনের জন্য প্রার্থনা করতে বলেছেন যেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসে। এখন আমরা দেখি অনেক কম্যুনিষ্ট রাষ্ট্রে  খ্রিস্টধর্ম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তাই তিনি সচল ও প্রার্থনার অংশীদার সর্বদা। প্রার্থনার ফল প্রাপ্তিতে অনেককেই সাড়া দেন। অনেকে তা জানান দেন, আবার অনেকে নীরব থাকেন।

আমরা মা মারীয়ার কাছে যা কিছু যাচ্না করি না কেন তিনি প্রার্থনার সাড়া দেন। অনেকের প্রার্থনা উদ্দেশ্য বিহীন থাকে অর্থাৎ সার্বজনীন মঙ্গলের প্রার্থনা। অনেকে প্রার্থনা করেন, মানত করেন, যাচ্না করেন। বাংলাদেশ ক্যাথলিক মন্ডলির প্রতিটি ধর্মপল্লীতে এবং অনেক উপ-ধর্মপল্লীতে মা মারিয়ার অগণিত ভক্তের জন্য আছে গ্রোটো। তাই শুধু গৃহে মালা প্রার্থনা নয়, গ্রোটোতে গিয়েও প্রার্থনা করে অনেকে। প্রণাম মারিয়া, প্রসাদে পূণ্য, প্রভু তোমার সহায়, তুমি নারীকূলে ধন্যা, তোমার গর্বের ফল যীশুও ধন্য। হে পূণ্যময় মারিয়া ঈশ্বরের জননী, আমরা পাপী, এখনই আমাদের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা কর। আমেন। এই প্রার্থনাটি ইংরেজীসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হয় মারিয়া ভক্তদের মাধ্যমে। সাথে ত্রিত্বের জয় বলবেন।

আমার একটি গান আছে গীতাবলীতে (গান নং ১১১২) ‘জগৎত্রাতার মাতা তুমি মা মারিয়া’ এই গানটির মাধ্যমে মা মারিয়াকে আবেদন জানানো হয়েছে, স্মরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের দিয়াং ধর্মপল্লীতে মা মারিয়ার তীর্থ হয় প্রতিবৎসর ফেব্রুয়ারী মাসের ২য় সপ্তাহে, শ্রদ্ধেয় বিশপ যোয়াকিম রোজারিও, সিএসসি ১৯৭৬ খ্রিস্টব্দে দিয়াং ্এর মা মারিয়ার তীর্থকে স্বীকৃতি দান করেন। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে মা মারীয়ার তীর্থ হয় ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বারোমারীতে। তীর্থের মনোবাসনা নিয়ে মা মারিয়ার ভক্তরা তীর্থে অংশ নেন। তাদের প্রার্থনা, মনের কথা জানান মা মারিয়াকে। মানত করেন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। মানত পূরণ হলে পরবর্তী বছর গিয়ে ধন্যবাদ জানান অনেকে। মা মারিয়ার ভক্তরা জানেন তাদের প্রার্থনা ফলবিহীন নয়। এমনকি খ্রিস্টান নয় ও ক্যাথলিক নয় অনেকেই এখন মা মারিয়ার ভক্ত।

খ্রিস্টভক্তদের জিবনে প্রার্থনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রার্থনা জীবনকে করে সাবলীল। প্রার্থনা জিবনের গতি এনে দেয়। মানুষ অসুস্থ হলে, গভীর বিশ্বাসে ও প্রার্থনায় সে উপকার পায়। প্রার্থনা তাই জিবনের অংশ। প্রার্থনাশীল মানুষ সৃষ্টিকর্তা পিতা পরমেশ্বর, মা মারিয়া ও প্রভু যীশুর আশীর্বাদ ও দয়া পেয়ে থাকে। তাদের আপনজন হিসেবে প্রার্থনায় বেঁচে থাকে।

প্রার্থনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দরকার নেই যদি আপনি অতি ব্যস্ত থাকেন। আপনার চলার পথে মাত্র ৫ মিনিট ৫টি প্রণাম মারিয়া (৫টি নিগূড়তত্বধ্যান) মনে মনে বলবেন প্রতিদিন ১ বার / ২ বার / ৩ বার। আপনি যাত্রাপথে, বাসে, অবসর সময়ে, কাজের ফাঁকে মালা প্রার্থনা করতে পারেন। আঙ্গুল টিপে করতে পারেন। মা মারিয়া আপনার প্রার্থনা শুনবেন। যখন আমি খ্রিস্টাব্দ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন একজন বিদেশী সিএসসি ফাদারের প্রার্থনা বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম ভাদুন হলি ক্রস ফাদারদের প্রার্থনা গৃহে। বিশ্বব্যাপী যিনি প্রার্থনার ফাদার প্যাট্রিক পেটন, সিএসসি’র মা মারিয়ার প্রার্থনা দলের সদস্য। সাথে ছিলেন ফাদার পরিমল পেরেরা, সিএসসি।

২০০৪ বা ২০০৫ খ্রিঃ হবে তখন, তিনি ভাদুন সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। ঐ বিদেশী ফাদার বলেছিলেন যখনই সময় পাবে মালা প্রার্থনা করবে যা আমার জীবনের এখন নিত্যসঙ্গী। আমাদের প্রত্যেকের জিবনে মা মারিয়ার আশির্বাদ দরকার। তাঁর করুণা ও অনুগ্রহ আমাদের জিবনে দরকার। কোটি কোটি মা মারিয়ার ভক্ত প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করছে। পথে ঘাটে, ঘরে বাহিরে প্রতিদিন আপনার সময় সুযোগ অনুযায়ী ৫টি মালা প্রার্থনা করুন। মা মারিয়ার প্রতি আপনার প্রার্থনা হোক নিত্যসঙ্গী। মা মারিয়া কাউকে নিরাশ করেন না। যারা প্রার্থনার জীবনে আছেন, সবার জন্য, নিজের জন্য প্রার্থনা করুন। মা মারিয়া আমাদের সহায় হোন।

লেখক : গণমাধ্যম কর্মী