বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭
পূর্ববর্তী


রাসুলকে ভালোবাসার তিনটি গুণ   মুনশি মুহাম্মাদ আবু দারদা


আমাদের অর্থনীতি :
10.11.2017

 

 

হুজুর (সা:) বলেন, যারা আল্লাহ এবং তার রাসূল কে ভালবাসতে চায় তারা যেনো এই তিনটি কাজ করে! ১. প্রথম গুণ হলো ‘সে যখনই কথা বলে সথ্য বলে মিথ্যা না বলে!’ এই কারনে যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে না! আর যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে না তার অন্তরে আল্লার মুহাব্বাতও কখনো হতে পারে না! এই কারনে যে আল্লাহ এবং তার রাসূলের মুহাব্বাত এবং মিথ্যা কখনো এক জায়গায় জমা হতে পারেনা! রাসূল (সা:) সত্য বলার প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বলেন তোমরা সর্বদা সত্য বলাকে আবশ্যক করে নাও,কারন এই সত্যতা তোমাদের জান্নাতে পৌঁছে দিতে পারে! যখন একজন মানুষ সর্বাদা সত্য বলার অভ্যাস বানিয়ে ফেলে তখন কোন এক সময় আল্লাহ তার নাম সত্যবাদিদের খাতায় লিখে দেন! এবং তাকে জান্নাতের দরজা দিয়ে দেন! ২. দ্বিতীয় গুণ হলো, ‘আমানত’। মানুষের হক আদায় করা! আল্লাহ এবং তার রাসূলের মুহাব্বাতের জন্য দ্বিতীয় শর্ত হলো আমানতদার হওয়া! যখন তোমার কাছে কারোর আমানত রাখা হয় অথবা তুমি কারোর থেকে ঋণ নিয়েছো! অথবা কারোর পারশ্রমিক তোমার জিম্মায় হয়! অথবা কারোর প্রতিদান তোমার জিম্মায় হয় তখন এই সকল জিনিস ঠিক সময় আদায় করার ক্ষেত্রে কিপটামি টালমাটাল না করে সময় মতো তাদের হক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া!  এবং কারোর কোন শিকায়েতও যেনো না আসে! আর এসব তোমার এই  কথার দলিল যে, তোমার ভিতরে আল্লাহর ভয় আছে! আর যে ব্যক্তি আমানত এবং অন্যের হক আদায় করার ক্ষেত্রে দেরি করে! এবং অন্যের হক আদায় করতে গিয়ে টালমাটাল করে! তার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে না, যদি থাকতো তাহলে আল্লাহর ভয়ে সে অন্যের হক নিয়ে টালমাটাল করতে পারতো না! আর যে এই সব করে তার অন্তরে আল্লাহ এবং তার রাসূলের মুহাব্বাত থাকে না এবং আল্লাহ এবং তার রাসূল এমন লোকের সাথে মুহাব্বাত রাখেও না! ৩. তৃতীয় গুণ হলো, আল্লাহ এবং তার রাসূল (সা:)এর মুহাব্বাতের জন্য নিজের প্রতিবেশির প্রতি দয়াবান হওয়া! যদি তোমার মধ্যে প্রতিবেশির প্রতি দয়া নেই! তো তোমার আল্লাহ এবং তার রাসূল (সা:) এর প্রতি ভালবাসা আছে এটা দাবি করা মিথ্যা! আর যদি তোমার মধ্যে প্রতিবেশির প্রতি দয়া থাকার সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসা এবং মুহাব্বাত থাকে তাহলে তোমার কথা সত্য! এই কারনে যে ইসলামে প্রতিবেশির হক আদায়ের ব্যপারে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে! হুজুর (সা:) বলেন, আমাকে হযরত জিবরাইল (আ:) প্রতিবেশির হক আদায় করার ব্যপারে এত উপদেশ দিচ্ছিল, আমার সন্দেহ হচ্ছিল কোথাও প্রতিবেশিকে উত্তরাধিকারী না বানিয়ে দেই! (তিরমীযি শরাফ)