শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭


প্রশ্নের জবাব


আমাদের অর্থনীতি :
10.11.2017

জীবন সত্য-সুন্দর। জীবনের প্রতিটি পথচলাও সুখ ও সমৃদ্ধির। এর সঙ্গে ইসলামের চর্চা যোগ হলে জীবন হয়ে উঠে আরও শান্তি ও কল্যাণময়। তবে প্রয়োজন ইসলামকে সঠিকভাবে জানা ও মেনে চলা। ইসলাম সম্পর্কে জানা অজানার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত ইসলামকে জানতে চোখ রাখুন ‘ইসলামি চিন্তা’র পাতায়। আমাদের ইমেইলে পাঠিয়ে দিন আপনার কৌতুহলী প্রশ্ন। উত্তর দিচ্ছেন দেশের শীর্ষ মুফতিগণ….

প্রশ্নমালা সাজিয়েছেন, মাওলানা সাঈদুর রহমান।

 

 

ক. ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে শ্বশুর-শ্বাশুরিকে কী বলে ডাকবো?

উত্তর : হাদিসে অন্যকে বাবা বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, বংশ পরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের পিতার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম প্রকাশ করা। যেমন-আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা পিতার নাম প্রকাশ করা জরুরি হয়। আর স্বামী বা স্ত্রীর পিতা-মাতাকে সম্মানার্থে আব্বা-আম্মা বলে সম্বোধন করার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না। তাই শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা হাদিসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এবং তা জায়েজ। অর্থাৎ শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে আব্বু-আম্মু বলে ডাকা যাবে। [আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৫৪; সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৭৬৬-৬৭৬৮,; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১১২-১১৫; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৯/২১০; তাফসীরে কুরতুবী ১২/৬৭; ফাতহুল মুলহিম ১/২৩৬

খ. কসর নামাজের সঙ্গে সুন্নত নামাজ পড়া যাবে?

উত্তর : যদি স্বাভাবিক অবস্থায় অথবা কোথাও স্থিত থাকা হয়, তাহলে কসর নামাজের সাথে সুন্নত নামাজ পড়া যাবে। আর যদি চলমান, তাড়াহুড়ায় বা জান মালের নিরাপত্তা জনিত আশংকা থাকে, তখন সুন্নত পড়ার দরকার নেই। তবে ফজর নামাজের সুন্নত সর্বাবস্থায় পড়তে হবে। তবে ফজর ও মাগরিবের নামাজে কসর নেই, এ দুই নামাজ স্বাভাবিক নিয়মেই পড়তে হয়।  সুনানে তিরমিজী- ২/৯৮ ফাতাওয়া শামী- ২/৭২৬-৭৩৮ ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/১৭১

গ. আল্লাহকে খোদা বা প্রভু বলার বিধান কী?

উত্তর : আল্লাহ তা’আলাকে খোদা বা প্রভু ইত্যাদি নামে ডাকা জায়েয আছে। কেননা এ শব্দ দুটিও আল্লাহ তা’আলার বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করে। তবে কুরআন-হাদীসে ব্যবহৃত নামে ডাকাই উত্তম। আবার আল্লাহ তা’আলাকেই বুঝায়, এমন প্রসিদ্ধ নামে ডাকাও জায়েয আছে। সহীহ বুখারী: ২/৯৪৯ রুহুল মা’আনী: ৯/১৫৮

ঘ. টাকা দিয়ে ইতিকাফে বসানো যাবে কী?

উত্তর : ইতিকাফ শরীয়তের একটি অন্যতম ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধুমাত্র   ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে জড়িত। আর শারিরিক ইবাদত পূর্ণতার জন্য কাউকে প্রতিনিধি বানানো জায়েজ নয়। সুতরাং টাকার বিনিময়ে ইতিকাফে বসা জায়েজ নয়। টাকা দিয়ে ইতেকাফে বসানোও জায়েজ নয়। দ্বীনি বিষয়ে এতটা অলসতা কিছুতেই কাম্য নয় যে, স্বেচ্ছায় ইতিকাফে বসতে কোনো মানুষ পাওয়া যায় না। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের প্রতি মোহাব্বত দান করুন।  ফাতওয়ায়ে শামী-৯-৭৬ আল ফিক্বহ আলা মাযাহিবিল আরবাআ-৩/৯৬ মাজমাউল আনহুর-৩/৪১৮