বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭


আমি একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি


আমাদের অর্থনীতি :
15.11.2017

বিএনপিকে দীর্ঘদিন সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এটা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত ছিল না। সরকার এবার সমাবেশ করতে দিয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভাল কাজ। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যে সব বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ এসবের কথা বলেছেন। এই দুটো বিষয় নিয়ে আমার মনে হয় না সরকারের সঙ্গে বিএনপির কোনো বিরোধ আছে। কেননা, ইভিএম পদ্ধতি নির্বাচন কমিশন করবে না। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এ ধরনের ইচ্ছা তাদের নেই। সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগেরও কোনো আপত্তি নেই। এখানে সমস্যাটা হচ্ছে যে, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হবে কি-না। এটা নিয়ে একটা বিতর্ক আছে। তবে এটা করতে হলে বিষয়টি আইন সংশোধনের ব্যাপার। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার পুলিশেরও নেই। পুলিশ যখন এই কাজে নিয়োজিত হয়, তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সঙ্গে থাকে। অতীতে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও ম্যাজিস্ট্রেট ছিল এবং এটাকেই আমার সংযত বলে মনে হয়। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচনকালীন সরকারটা কি হবে? বর্তমানে তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে নেই। আর এটা করতে হলে যে আন্দোলন দরকার, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে বাধ্য করতে বিএনপি পারেনি। এখন আলোচনার টেবিলে যে বিষয়টা সেটা হলো, আজকের অবস্থানে নির্বাচনকালীন সরকারটা কি রকমের হতে পারে? সেটা সংগতভাবেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হওয়ার কথা কিন্তু বেগম জিয়া বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে তিনি নির্বাচনে যাবেন না। সেই জায়গা থেকে একটা দরকষাকষি হতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো যা চাওয়া হয় তার সব কিছুইতো পাওয়া হয় না। আমার মনে হয়, এটা একটা দরকষাকষির জায়গা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেটা হলো বিরোধী দলকেও সরকারের ভেতরে একোমডেট করা। এবারের নির্বাচনে তিনি এ ধরনের কোনো ফর্মুলা দিবেন কিনা সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি জাতীয় সংসদে নেই, তাহলে তারা কিভাবে যাবে? সেক্ষেত্রে তারা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিতে পারে। এ্যারেজমেন্ট যাই হোক না কেন, আলাপ-আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। কিন্তু আলাপ-আলোচনা হচ্ছে না, উভয় দলই আলাদা আলাদা জায়গা থেকে কথা বলছেন। এজন্য উভয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। আলোচনার মাধ্যমে একটা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার তৈরি করা যেতে পারে। আশার কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, তিনি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না। যেহেতু একটা ভাল নির্বাচন চান আর সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে বিরোধী দলের বক্তব্যকেও আমলে নিতে হবে এবং একটা রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে হবে। বেগম জিয়া সেই সমঝোতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়, আগে যে অবস্থানে ছিল সরকার এবং বিএনপি বর্তমানে তাদের কথা-বার্তা আমার কাছে নমনীয় মনে হয়েছে। সেদিক দিয়ে আমি একটা আশার আলো দেখতে পাই।

পরিচিতি : সিনিয়র সাংবাদিক

মতামত গ্রহণ : সাগর গনি

সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ