শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭


জোড়াতালি দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের আইসিটি শিক্ষা


আমাদের অর্থনীতি :
15.11.2017

তরিকুল ইসলাম সুমন : স্কুল-কলেজে কম্পিউটার শিক্ষা (আইসিটি) বাধ্যতামূলক করা হলেও জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল ও কলেজে দায়সারাভাবে আইসিটি শিক্ষা চালু রায়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানাগেছে।

মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) এ.কে.এম মোস্তফা কামাল জানান, সরকারিভাবে আইটি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কাজ চলছে। ২০১১ এবং ২০১৩ সালে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের টাকা পয়সা দেওয়া নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দূর করার জন্য শিক্ষামন্ত্রনালয় কাজ করছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইটি শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ণ কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাজ করছে। এ প্রতিষ্ঠান সিলেকশন করার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ দেবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যারও সম্ধান সম্ভব হবে।

মাউশি সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আছে ২৬ হাজার ৮১টি। এরমধ্যে প্রায় আট হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষার একজন করে শিক্ষক সরকার থেকে এমপিওভুক্তি হিসেবে বেতনভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই অন্য বিষয়ের শিক্ষক, যারা আইসিটি বিষয়ে দক্ষ নন। মাউশির অধীনে পরিচালিত এমপিওভুক্ত নন, সারাদেশে এমন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। রাজধানীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা পাঠদান চলছে। এসব

মাউশির হিসেবে বর্তমানে কম্পিউটার বিষয়ে প্রায় আট হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্তি আছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে চার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন। আর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ডিগ্রি কলেজ, দাখিল মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা এবং কামিল মাদ্রাসায় সাড়ে তিন হাজার কম্পিউটার শিক্ষক এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামো অনুসারে কিছু শর্ত সাপেক্ষে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা হয়। কোন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা যায়। জনবল কাঠামোতে প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ের একজন করে শিক্ষককে এমপিওভুক্তির নিয়ম রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে কম্পিউটার বিষয়ের সিলেবাসে পরিবর্ধন ও পরিবর্তন করা হয়। বিষয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘কমপিউটার বিজ্ঞান’র পরিবর্তে করা হয় ‘কম্পিউটার শিক্ষা’।