রবিবার ২১ জানুয়ারী ২০১৮


প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ : মির্জা ফখরুল


আমাদের অর্থনীতি :
13.01.2018

মাঈন উদ্দিন আরিফ : জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে জনগণ হতাশ হয়েছে। মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এতে সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। বরং জাতিকে আরেক দফা সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের ঘণ্টা খানেক পর গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
আজ শনিবার বিকাল ৩ টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক সংকট চলছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কীভাবে নির্বাচন অর্থবহ করা যায় তা নিয়ে কিছু বলেননি। দুঃখজনকভাবে তার বক্তব্যে সংকট নিরসনের কোনো লক্ষণও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার, তার আয়োজনে সরকার আন্তরিক নয়। এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ আশাহত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশ দুর্নীতির মহাসড়কে আছে। উন্নয়নের নামে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেছেন। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলায় সে সংকট রয়ে গেল। দেশের মানুষ অর্থবহ নির্বাচন দেখতে চায়। তার বক্তব্যের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেল না। এটা হতাশাজনক। মানুষ এ অন্যায় সহ্য করবে না।
নির্বাচন নিয়ে কোন রকম নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যেকে হুমকি বললেন ফখরুল। আমরা বলতে চাই, নৈরাজ্য বিরোধীদল সৃষ্টি করে না। নৈরাজ্য করে সরকার। বিগত সময়ে তারাই নৈরাজ্য করেছিল যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবিধান সংশোধনে জনগণের আশার প্রতিফলন হয়নি।
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, অর্পণা রায়, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের রাজীব সীমান্ত, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব হোসেন