শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮


চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে ‘বিয়ে’ গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির


আমাদের অর্থনীতি :
09.02.2018

 

 

মানবতার ধর্ম ইসলাম নারী পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পবিত্র জীবন যাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে। কেননা নারী-পুরুষের পবিত্রতা ও সতিত্ব রক্ষার বাস্তব হাতিয়ার হল বিবাহ ব্যবস্থা। বিয়ে হল পুরুষ ও নারীর মাঝে সামাজিক পরিবেশে এবং ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক অনুষ্ঠিত এমন এক সম্পর্ক যার ফলে নারী পুরুষ দুজনে একত্রে বসবাস এবং পরস্পরের যৌন সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ বৈধ হয়ে যায়। বিবাহ  একটি শুভ ও ধমীর্য় অনুষ্ঠান যা পালনের মধ্য দিয়ে নারী পুরুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা হয়। এই বিবাহ অনুষ্ঠানে আনন্দ উল্লাসের নামে বেহায়পনা বা অশ্লীল অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবর্তে ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রাখা অবশ্যই কর্তব্য। ইসলাম বৈরাগ্য নীতির কোন স্থান নেই। ইসলামে সামর্থবান ব্যক্তিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আদেশ দেয়। সামর্থ থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং অপরাধ। বিবাহ কেবল ভোগ বিলাসের জন্য নয় বরং বিয়ে হল প্রত্যেক নর-নারীর জীবনকে পুত: পবিত্র, সুন্দর এবং সার্থক করার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মাধ্যম।  পবিত্র কুরআন শরীফে বিয়ে এবং স্ত্রী গ্রহণের ব্যবস্থাকে নবী রাসুলের প্রতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ দান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে করা হয়েছে, হে নবী আপনার পূর্বেও আমি অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছি এবং তাদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের ব্যবস্থা করেছি। আয়াতের মর্মবানী থেকে বুঝা যায় বিবাহ আল্লাহ পাকের প্রদত্ত একটি ঐশী বিধান। একই প্রসঙ্গে সুরা নূরে মহান আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেছেন, এবং বিয়ে দাও তোমাদের এমন সব ছেলে মেয়েদের স্বামী স্ত্রী বা স্ত্রী নেই; বিয়ে দাও তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা বিয়ের যোগ্য হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর উপর গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়। সূরা বাকারার ১৮৭ আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোষাক স্বরূপ আর তোমরা তাদের জন্য পোষাক স্বরূপ। অর্থাৎ পোষাক যেমন করে মানব দেহকে সকল প্রকার নগ্নতা, অশ্লীলতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে ঠিক তেমনি বিবাহর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে সেভাবে বাঁচিয়ে রাখে বিয়ের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক নর নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনে ইরশাদ করা হয়েছে তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর: যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান কর; যেন তারা বিয়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকতে পারে এবং অবাধে যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত না হয়ে পড়ে”। (সুরা নিসা আয়াত ২৫) এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বিয়ে না করে অবৈধ যৌন সম্পর্ককে নিরুৎসাহিত করেছেন।

নৈতিক চরিত্র সংরক্ষণ, পবিত্রতা এবং সতিত্ব রক্ষার অন্যতম মাধ্যম বিয়ে। বিয়ে হচ্ছে নারী পুরুষের চরিত্রকে পবিত্র রাখার একমাত্র বৈধ উপায়। বিবাহের মাধ্যমে পাপ কর্ম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জৈবিক চাহিদা পূরণ হয়। মনে প্রশান্তি আসে। বিয়ের ফজিলত অপরিসীম। বিয়ে করার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পথ সহজ হয়। ইসলামে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক যা প্রত্যেক নর-নারীর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিতাপের বিষয়, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আজকের নামধারী সভ্য সমাজের কিছু নরকের কীট নর-নারীর এই বন্ধনকে অবজ্ঞা, অবহেলা, জীবন চলার পথের প্রতিবন্ধকতা মনে করে এই পবিত্র বিবাহ বন্ধনকে অবমূল্যয়ান করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক তথা সমাজ এবং ধর্ম বিবর্জিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এ সকল অপকর্মের বিষাক্ত ছোবলে পৃথিবীতে নেমে আসে ভূমিকম্প সহ মারাত্বক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

ইসলাম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত জীবন বিধান। সৃষ্টি কর্তা তার সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। ইসলামের শাশ^ত বিধান উপেক্ষা করে শান্তিময় জীবন সম্ভব নয়। আজকের নারী সমাজকে পাশ্চাত্যের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষা ও সুন্দর জীবন লাভের জন্য ইসলামের বিধি বিধান মেনে চলা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের পরকালীন জীবন হবে শান্তি ও মুক্তির অনবদ্য উপায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) এর বাণীর চেয়ে উত্তম ও গঠনমূলক নীতি আর কি হতে পারে। তিনি বলেছেন, বংশ মর্যাদা লাভের আশায়, নৈতিক চরিত্র পরিশুদ্ধ রাখা এবং আদর্শ পরিবার ও সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যেই বিয়ে করা উচিত। সুতরাং বিয়ে করার মাধ্যমে আমরা ব্যভিচার থেকে বাঁচতে পারি এবং মনের প্রশান্তি আনতে পারি।