সোমবার ২৫ জুন ২০১৮


অন্যের ঘরে প্রবেশকালে ইসলামের বিধান


আমাদের অর্থনীতি :
09.03.2018

 

মুফতী মুজাহিদ সরকার

 

কুরআনের সামাজিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, কারো সাথে সাক্ষাত করতে গেলে অনুমতি নাও, অনুমতি ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করিও না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে শরীয়ত এ বিষয়টিতে যত গুরুত্ব দিয়েছে, মুসলমানরা এ ব্যাপারে ততটুকু নির্লিপ্ত। অথচ কুরআনের নির্দেশের পরেও প্রতিটি বিষয়ের ন্যায় রাসূল স্বীয় কথা ও কাজের মাধ্যমে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

অশিক্ষিত অসভ্যদের কথা বাদ দিয়ে শিক্ষিত সভ্যদের মনোভাব হল তারা এটিকে পাপই মনে করে না এবং একে বাস্তবায়িত করার চেষ্টাও করে না। তদুপরি বিশ্বের অন্যান্য জাতি একে অবলম্বন করে তাদের সমাজ সুসংহত করে নিয়েছে, এ লক্ষে শুধু মুসলমানরাই পিছে পড়ে আছে। ইসলামী বিধি-বিধানের মধ্যে সর্ব প্রথম এর প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন শুরু হয়েছে। মোটকথা, অন্যের গৃহে প্রবেশ কালে অনুমতি চাওয়া কুরআন পাকের একটি অপরিহার্য বিধান। যাতে নূন্যতম অলসতা ও পরিবর্তনকে  হযরত ইবনে আব্বাস রা. কুরআনের আয়াত অস্বীকার করার মত গুরুতর ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। সাম্প্রতিককালে মুসলমানরা এসব বিধানের প্রতি এতটাই উপেক্ষা প্রদর্শন করে চলছে, যেন তাদের মতে এগুলো কুরআনের বিধানই নয়। নাউযুবিল্লাহ! আমাদের এ বিরোধ মনোভাবের কারণ হিসেবে যে বিষয়টি সনাক্ত করা যায়, তা হল শরয়ী বিধানাবলীর ফযীলত বা উপকারিতা হতে অনবগততা, এই অগ্যতা বিমোচিত হলেই আমরা পুনরাই এ বিধানগুলোর ব্যাপারে যতœবান হতে পারব। আর উল্লিখিত বিধানটিতে চারটি উপকারিতা নিহিত রয়েছে। (১) আল্লাহ মানুষকে বসবাসের স্থান দান করেছেন। তা মালিকানাধীন হোক বা ভাড়া হোক, সর্বাবস্থায় তারই গৃহ তার আবাসস্থল। এর আসল উদ্দেশ্য শান্তি ও আরাম, কুরআনে নিয়ামতরাজির উল্লেক প্রসঙ্গে এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন। “আল্লাহ তা‘য়ালা তোমাদের গৃহে তোমাদের জন্যে শান্তি ও আরামের ব্যাবস্থা করেছেন”। এই শান্তি ও আরাম তখনই অক্ষুণœ থাকবে যখন মানুষ অন্য কারো হস্তক্ষেপ ব্যতীত নিজ গৃহে নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ ও বিশ্রাম করতে পারবে। তার স্বাধীরনতায় বিঘœ সৃষ্টি করা মানে তার উদ্দেশ্যকে প- করে দেয়া।  তা রক্ষা হয় অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমে। (২) দ্বিতীয় উপকারীতা স্বয়ং সাক্ষাৎপ্রার্থীর কেননা ভদ্রতার সাথে সাক্ষাৎ উদ্দেশ্য আদায়ের উৎসূক হয়। আর অভদ্রতার সাথে সাক্ষাৎ বিরক্তির জনক, ফলে তা কাঙ্খিত বস্তু অর্জনে বিঘœতা সৃষ্টি করে। (৩) অনুমতিহীন প্রবেশের কারণে যে রমনীদেরকে দেখা অবৈধ আকস্মিক তাদেরকে দেখার অধিক সম্ভাবনা থাকে। যা অন্তরের কুমন্ত্রনা জাগ্রত করতে সক্ষম। সুতরাং তা হারাম।

(৪) অনেক সময় মানুষ নিজ গৃহের নির্জনতায় এমন কাজে ব্যস্ত থাকে, যা অন্যরা অবহিত হওয়াকে সমীচীন মনে করেন না। এমতাবস্থায় তার অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করলে তার গোপন বিষয় উদয় হয়ে যায়। অথচ কারো গোপন বিষয় জোরপূর্বক জানার চেষ্টা করা পাপ। আল্লাহ আমাদের সকলকে উক্ত বিধান তথা নিয়ামত পালন করা সহ সকল বিধান পালনে উৎসুক বানিয়া দিন। আমীন!

সিনিয়র শিক্ষক : জামিয়া মাদানিয়া রওজাতুল উলূম কুমিল্লা।