বুধবার ২৩ মে ২০১৮


নীতির রাজা রাজনীতি


আমাদের অর্থনীতি :
11.04.2018

মো. জাকির হোসাইন

রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। জনগণের প্রতিটি আশা-আকাঙ্খা রাজনীতির সাথে যুক্ত বা এক কথায় বলা যায়, সাধারণ মানুষের সম্পূর্ণ জীবনমান নির্ভর করে রাজনীতির ওপর। রাজনীতিকরা জনগনের সাথে যে ওয়াদা করে সেই ওয়াদাকে ভিত্তি করে রাজনীতিকদের নীতি মাপা হয়। সংঙ্গতকারণেই নীতির রাজা রাজনীতি। তাই রাজনীতির নীতি যদি ঠিক থাকে তাহলে সকল মানুষ সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারে এবং দেশ এগিয়ে যায়। আর রাজনীতি যদি নীতিহীন হয়, তখন দেশ সঠিক পথ ছেড়ে ভুল পথের দিকে ধাবিত হয়। জনগণের জীবনে আলোর বদলে অন্ধকার নেমে আসে। তখন সর্বক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে।

নীতি সর্বদা  রাজনীতির মূল ভিত্তি নীতি, এই নীতির মৌলিকতার ওপর ভিত্তি করেই রাজনীতি গঠিত হয় এবং সামনে এগিয়ে যায়। এই নীতিতে প্রাধান্য পায় সংখাগরিষ্ঠ  জনগণের মতামত। যাকে বলে গনতন্ত্র। আর বাংলাদেশ একটি গনতান্ত্রীক দেশ। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ নিয়েই নয় মাস যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রোমের বিনিময়ে এই সাধীন করা হয়েছিল। তাই সংগতকারনেই রাজনীতি হচ্ছে জনগনের প্রত্যাসার প্রতিচ্ছবি। রাজনীতিতেই মিশে আছে সাধারণ মানুষের ভাগ্য। জনগনের সাথে থাকতে চাইলে রাজনীতিতে থাকতে হবে। আর রাজনীতিতে থাকতে হলে নির্বাচনে থাকতে হবে।  নির্বাচন বর্জন করে কখনোই রাজনীতির মূল ধারায় থাকা যায় না। কেননা একটি মুদ্রার একপিঠ যদি রাজনীতি হয় তাহলে অন্যপিঠ হচ্ছে নির্বাচন। আর এই সকল কিছুর মূলে আছে গণতন্ত্র।  তাই নির্বচন থেকে যদি রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দলগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে গনতন্ত্র হোছট খেয়ে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। সেকারনে জনগনের অধিকার রক্ষায় এবং গনতন্ত্রকে বাচিয়ে রাখতে যেকোনো পরিস্থীতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহনের কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন বা অসন্তোষ থাকতে পারে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজেদের দাবি তুলে দরে আলোচনায় বসতে পারে। সরকার যদি তারপরেও দবি মেনে না নেয় তার মানে এই নয় যে, নির্বাচন বর্জন করতে হবে। একটা রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে সেই দলের সাথে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। একটা রাজনৈতিক দলের সাথে যখন জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হয় তখন সেই রাজনৈতিক দল দূর্বল হয়ে পড়ে যার ফলে সেই দল তার দাবি আদায়ে আন্দোলন করে কখনোই সুফল বয়ে আনতে পারে না। তাই একটি গনতান্ত্রীক দেশে, নির্বাচনী সংস্কৃতিতে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাই আমি মনে করি যেকোনো পরিস্থিতিতেই জনগনের অধিকার আদায়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

ইচ্ছা বা অনিচ্ছার মাঝে থেকেই ‘গণফ্রন্ট’র একজন প্রর্থী দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে আগামি একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘গনফ্রোন্ট’ এবং ‘প্রগতিশীল জোট’ অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় সংসদে জনগনের প্রতিনীধি হয়ে প্রতিনীধিত্ব করবে এবং জনগনের দাবি আদায়ে গনতান্ত্রীক পদ্ধতিতে আন্দোলনে থাকবে।

পরিচিতি : চেয়ারম্যান, গণফান্ট ও প্রগতিশীল জোট/মতামত গ্রহণ : লিয়ন মীর/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আব্দুল অদুদ