রবিবার ২২ এপ্রিল ২০১৮


মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি


আমাদের অর্থনীতি :
13.04.2018

 

মুহাম্মাদ আবু আখতার

 

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার যে আয়োজন করা হয় তা সম্পূর্ণ ঈমানবিরোধী বিজাতীয় সংস্কৃতি। মঙ্গল শোভাযাত্রায় মিছিলের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন জীবজন্তুর মুখোশ পড়ে। যেমন, পেঁচা, হনুমান, ভাল্লুক, হরিণ ও বাঘ ইত্যাদি। হিন্দুদের বিশ্বাস মঙ্গল অমঙ্গলের মালিক লক্ষীদেবী। আর লক্ষীদেবীর বাহন হলো পেঁচা। সেজন্য মূলত পেঁচার মুখোশ ব্যবহার করা হয়। কেননা পেঁচা আসলে লক্ষীদেবী আসবে। আর তাহলে মঙ্গল হবে। (নাউযিবিল্লাহ)

মঙ্গল অমঙ্গলের মালিক মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালা। তিনি না চাইলে কোন মানুষ অথবা কোন শোভাযাত্রা কাউকে মঙ্গল দিতে পারে না। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আল্লাহ যদি তোমার অমঙ্গল করতে চান তাহলে কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে তিনি যদি তোমার মঙ্গল করতে চান তবে তা রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন তাকে কল্যাণ দান করেন। তিনি  ক্ষমাশীল দয়ালু। (সুরা ইউনুস: আয়াত নং ১০৭)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মঙ্গল শোভাযাত্রা বিজাতীয় উৎসব। কোন মুসলমানের জন্য এ উৎসবে যোগদান করা কোনক্রমে বৈধ নয়। ইসলামে এ ধরণের উৎসব পালনের কোন সুযোগ নেই। শয়তান কৌশলে মানুষকে ধোকা দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের নামে এসব শিরকপূর্ণ কার্যকলাপ করতে প্ররোচিত করছে। এজন্য অনেক আকর্ষণীয় যুক্তিও মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মুখরোচক কুযুক্তির কবলে পড়ে এসব শিরকপূর্ণ কাজ যে অন্যায় এ অনুভূতি ও বিশ্বাস অনেক মানুষের মন থেকে দুরীভূত হচ্ছে। ফলে অনেক হারাম কাজকেও তারা হালাল মনে করছে। আর হালাল কাজকে হারাম মনে করছে। এভাবে মানুষের ঈমান নষ্ট হচ্ছে।

সকল ধর্মের লোকদেরকে এ উৎসবে যোগদানের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে এ মুখরোচক বুলি বহুল প্রচলিত যে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এ কথাটিও ইসলামী আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা ধর্ম যার উৎসবও তার। কোন শরীয়তবিরোধী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা কোন মুসলমানের জন্য কখনও বৈধ নয়। আর আল্লাহ তায়ালার নিকট জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামই গ্রহণযোগ্য। অন্য কোন ধর্মীয় কালচার গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্ম অনুসরণ করবে তা কখনো আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা আলি ইমরান, আয়াত নং ৮৫)

সুতরাং প্রত্যেকের কর্তব্য হচ্ছে, সকল প্রকার ঈমানবিরোধী কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকেও বিরত রাখার চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সে তাওফীক দান করুন।