রবিবার ২২ এপ্রিল ২০১৮


আসিফাসহ তিন শিশু ধর্ষণ ও হত্যার  ঘটনায় ক্ষোভ-বিক্ষোভে উত্তাল ভারত


আমাদের অর্থনীতি :
16.04.2018

প্রত্যাশা প্রমিতি সিদ্দিক: ভারতে তিন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে-বিক্ষোভে উত্তাল পুরোদেশ। গতকাল  রোববার বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ও দিল্লিতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে  বিক্ষোভ করে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়ায় আসিফা, উত্তর প্রদেশের উন্নাও-তে শিশু  ও মোদীর গুজরাটে ১১ বছরের বালিকা  ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। মানবাধিকার কর্মীরা নারীর নিরপত্তাহীনতার জন্য প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, তদন্তকারীরা নারীর ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করতে উপর্যুপরি ব্যর্থ হওয়ায় এই সহিংসতা বাড়ছে। এই সময় তারা ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়।

ভারতের কাঠুয়া ও উন্নাও গণধর্ষণের পরই রোববার গুজরাটের সুরাটে ১১ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণের খবর আসে। ১১ বছরের ওই বালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে গুজরাতের সুরাটের পান্ডসেরা এলাকায় একটি জঞ্জালের স্তূপ থেকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তার শরীরে অন্তত ৮০টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এখনও পর্যন্ত পরিচয় জানা যায়নি বালিকার। পুলিশের সন্দেহ, মেয়েটির বাড়ি অন্য কোথাও। তাকে মেরে পান্ডসেরা এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়েছিল। বালিকা ও তার পরিবারের বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে, ঘোষণা করেছে গুজরাট পুলিশ।

এদিকে ধর্ষকদের কাউকে রেহাই দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সপ্তাহজুড়ে প্রকাশিত হওয়া এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা ভারতের শিক্ষার্থীরা মোদির কাছে এক চিঠি লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় হাই-কমিশনে দাখিল করা ওই চিঠিতে তারা ভারতের তিন সংখ্যালঘু শিশু-কিশোরী ওপর চলা এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার দাবি করেন। তারা আরো বলেন, ‘এই ইস্যুতে কথা বলার সময় আপনি জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন,বিচার হবে। ভাল। কিন্তু প্রশ্ন হল। সেটি কখন, কবে এবং কিভাবে?’

গত দুইদিন আগেই কাঠুরায় আট বছরের বালিকা আসিফাকে অপহরণ করে সাতদিন আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় পুরো ভারতজুড়ে। পুলিশের চার্জশিটের পর তিন মাস আগের এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন বিজেপির মন্ত্রী লাল সিং। কিন্তু আসিফা ধর্ষণ মামলায় আসিফার পরিবারের পক্ষ থেকে তার আইনজীবি দাবি করেন,  ‘খুন ও ধর্ষণে অভিযুক্তদের আড়াল করতে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের সমর্থনে মিছিল পর্যন্ত বেরিয়েছে। মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে আইনজীবীর উপর চাপ পর্যন্ত সৃষ্টি করা হয়েছে।’ আসিফার বাবা বলেন, আমাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা হত্যার হুমকি পেয়েছি। যদি এই দেশে মানবতা বলতে কিছু থাকে তবে ‘আমি কন্যা হারাইনি’, মানুষ এইভাবে ভাববে যে, ‘ভারত তার বেটিকে হারিয়েছে’। এরপর শনিবার উন্নাওয়ে অপর একটি ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে ৭ দিন সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ‘ভয়ানক’ আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। তাঁর মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক এ দিন বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম ঘটনাটা জেনেছি। আশা করি অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।’  প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ভারতজুড়ে ৪০ হাজার ধর্ষণের মামলা হয়েছে, ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার। অধিকার কর্মীরা বলছেন, এর মধ্যে হাজারো ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশই হয় নি। এনডিটিভি, রয়টার্স।