রবিবার ২২ এপ্রিল ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » নগর সংস্করণ » রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত থাকলে আইন-শৃংখলা বাহিনীকেও ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত থাকলে আইন-শৃংখলা বাহিনীকেও ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আমাদের অর্থনীতি :
16.04.2018

স্বপ্না চক্রবর্তী: আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত থাকলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি রমজান মাসে নৈতিকতার সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান। গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রমজান মাসজুড়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম কে প্রশয় দিবে না দিয়ে ধরনের পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করবে বলে আমি মনে করি। এসময় তিনি মহাসড়কগুলোতে যানজট নিরসনে গাড়ির চালকদেরকে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর আহবান জানান এবং মাত্রারিক্তি পণ্য পরিবহনে বিরত থাকার কথা বলেন। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিপনী বিতান সমূহে নিরাপত্তা বিধানে সরকারের পক্ষ হতে সকল ধরনের উদ্যোগ গ্রহণেরও আশ্বাস দেন।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি গোলাম রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ১৭.৫১% বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে ২০১৮ সালে দেশে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৫.৮২শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যে গড় মূদ্রাস্ফীতি হচ্ছে ৭.১৩শতাংশ। এ পরিস্থিতে রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়লে মধ্যবিত্ত আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে। তাই ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো দুই অঙ্কের উচ্চ সুদের হার এবং কোনো কোনো ব্যাংকের ১৬শতাংশ থেকে ১৭শতাংশ সুদ হার উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে, পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পাওয়ার জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ। আর সব কিছুর চাপ গিয়ে শেষ পর্যন্ত পরে উৎপাদন খরচের সাথে এবং পরোক্ষভাবে এর ব্যয়ভার ভোক্তাকেই বহন করতে হয়। তিনি আরোও বলেন, রমজানে ট্যারিফ কমিশন ও রাজস্ব বোর্ড নির্দিষ্ট ভোগ্যপণ্যে ট্যারিফ ও শুল্ক হ্রাস করতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা রমজানে পাইকারী পর্যায়ে বিক্রয় করার ক্ষেত্রে অন্যান্য মাসের তুলনায় সুলভমূল্যে বিক্রয় করতে পারবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি সভা আয়োজন করে যেখানে এ বছর রমজান মাসে চাহিদা মাফিক পণ্য সরবরাহের বিষয়টি সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।