বুধবার ২৩ মে ২০১৮


গুলশানে গৃহকর্মীর মৃত্যু, অপমৃত্যু মামলা দায়ের


আমাদের অর্থনীতি :
16.05.2018

সুজন কৈরী ও সুশান্ত সাহা: রাজধানীতে গুলশানের ১০তলা একটি ভবনের ৬ তলা থেকে পড়ে রিফা আক্তার (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, বকাঝকা দেয়ার পর সে পালাতে গিয়ে ভবন থেকে নিচে পড়ে যায়। সোমবার সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের ১২২ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়ি থেকে রিফার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিফার মা বাদি হয়ে গুলশান থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে রিফার লাশ নিয়ে গেছে পরিবার।
জানা গেছে, রিফা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকার মৃত মো. শাহাবুদ্দিনের মেয়ে। রিতার গৃহকর্তা মাহবুবুর রহমান খানের বরাত দিয়ে গুলশান থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, রিফা প্রায় ১২ বছর ধরে মাহাবুবুরের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন । গত সোমবার সন্ধ্যায় রিফাকে সামান্য বকাঝকা দেয় মাহবুবুর খানের পরিবারের লোকজন। রাত ৮টার দিকে দরজা জানালা বন্ধ করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পঞ্চম বা চতুর্থ তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় পড়ে যায় রিফা। খবর পেয়ে বাসার লোকজন তাকে প্রথমে শাহজাহানপুরের প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফার মৃত্যু ঘটে। পরে রিফার লাশ আবারো বাসায় নিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে মাহবুবুল খানের বাসার ড্রইং রুমের মেঝে থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসআই সাইফুল আরো জানান, সাধারণত ভবন থেকে পড়ার পর ভিকটিমের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, রিফার কপালের বাম পাশে কালো দাগ ও হালকা ফোলা, থুতনির বাম পাশে, বাম হাতের কনুই থেকে হাতের তালু পর্যন্ত জখম, রানের উপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটা জখম রয়েছে। ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল ও বাম পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে কালো দাগ রয়েছে।
গতকাল রাতে ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ার বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোতালার খোলা স্থানে কিছু পড়ার শব্দ পান। পরে সেখানে উঠে রিফাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি রিফার মালিককে জানানো হয়। তারা এসে রিফাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনও রিফা জীবিত ছিলেন। দেলোয়ার ওই ভবনে তিন মাস ধরে কাজ করছেন উল্লেখ করে আরো জানান, ভবনটির লেভেল-৬ এর ফ্লাটটির মালিক মাহবুবুর রহমান। রিফা তার আত্মীয়। কিন্তু কেমন আত্মীয় তা বলতে পারেননি তিনি। মাহবুবুরের ফ্লাটে যেতে চাইলে দেলোয়ার বাধা দিয়ে বলেন, তারা কেউই বাসায় নেই। সবাই থানায় রয়েছেন। তবে থানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রিফার মা মোসা. শাহিনার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গুলশান থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রিফার একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাসার মালিকের অগোচরে প্রায়ই রিফা বাসা থেকে শার্ট-প্যান্ট নিয়ে প্রেমিককে দিতো। সম্প্রতি ভারত থেকে বাসার মালিক একটি শার্টপিস আনেন। সোমবার সন্ধ্যার পর শার্টপিসটি খুঁজে না পেয়ে সন্দেহের বশে রিফাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রিফাকে বলেন, শার্টপিসটি বের করে দিতে, নাহলে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। এরপর রিফা রান্নাঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বেলকুনি দিয়ে গ্রীল বেয়ে নীচে নামার সময় পড়ে আহত হয়। এরপর উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গতকাল যোগাযোগ করা হলে রিফার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, উঁচু স্থান থেকে পরে যাওয়ায় শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।