রবিবার ২৪ জুন ২০১৮


সতর্ক অবস্থানে বিএসটিআই
ভেজাল-মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি চলছেই


আমাদের অর্থনীতি :
22.05.2018

 

স্বপ্না চক্রবর্তী: নিয়মিতভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের বিক্রি। রমজান উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের সব জায়গায় এসব ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি বন্ধে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনও (বিএসটিআই) ভেজালবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ভোক্তাদের ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে পরিচালিত এসব অভিযানে সম্প্রতি সুপার শপ স্বপ্নসহ রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেইট, পান্থপথ, গ্রীণরোড, মগবাজার, মৌচাক, রামপুরা, বনশ্রীসহ আরো কয়েকটি জায়গায় পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে  জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ পণ্যের ব্যবসা।

গতকালও সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর গ্রীণরোডে এমনই একটি অভিযানে ইফতারি পণ্য তৈরিতে নি¤œমানের তেল ব্যবহারে জরিমানা করা হয় কয়েকটি হোটেলকে।

এদিকে বিএসটিআই এবং শিল্পমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি বন্ধে ২০১৭ সালের মে থেকে চলতি মাস পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সংখ্যা ৩৮২টি, মামলা দায়ের হয়েছে ৫২২টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ৫২২, সার্ভিল্যান্স টিম পরিচালনার সংখ্যা ১ হাজার ৬৬টি, সার্ভিল্যান্স টিমের মামলা দায়েরের সংখ্যা ৪০৫টি। বিএসটিআইয়ের পরিচালক  মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এসব অভিযানে কারাদ- প্রদান করা হয়েছে ৫৮ জনকে। সিলগালা করা হয়েছে ২৮টি কারখানা।

এ ব্যাপারে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, ভেজাল ও নি¤œমানের পণ্যের বিরুদ্ধে আমরা সারা বছরই অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু রমজান মাস উপলক্ষে আমরা এ অভিযানের পরিমাণ বাড়িয়েছি কয়েকগুণ। পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আমরা প্রায় প্রতিদিনই ৩ থেকে ৪টি অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, রাজধানী ছাড়াও দেশের অন্যান্য জায়গায়ও আমাদের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি পুরো রমজান মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, আকস্মিকভাবে পরিচালিত অভিযানগুলোতে রোজাদাররা সচরাচর যে সকল খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন, যেমন: মুড়ি, কলা, খেজুর, আম, সফ্ট ড্রিংক পাউডার, কার্বনেটেড বেভারেজ, ফ্রুট সিরাপ, ফ্রুট জুস/ ফ্রুট ড্রিংকস, ভোজ্যতেল, সরিষার তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, লাচ্ছা সেমাই, সেমাই, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেট ইত্যাদির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখা হবে।  সম্পাদনা: আনিস রহমান