ডাস্টবিন আর গাড়ি পার্কিংয়ে ব্যস্ত ‘মুক্তাঙ্গন’

    ফয়সাল খান : রাজনৈতিক কর্মসূচি আর বাক-স্বাধীনতার জন্য এক সময়কার উন্মুক্ত অঙ্গন ‘মুক্তাঙ্গন’ এখন ডাস্টবিন আর গাড়ি পার্কিং এলাকায় পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালীরাও দখলে রেখেছে এর বেশকিছু অংশ। এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি পার্ক হলেও দূর থেকে পার্কিং এরিয়া ও ডাস্টবিন ছাড়া অন্য কিছু বুঝার উপায় নেই।
    সরেজমিনে দেখা যায়, যত্রতত্র মূত্রত্যাগের ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের রাস্তায়। মাঝখানে রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার স্তুপ। ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় এলাকাটি অনেকেই এড়িয়েই চলেন। ভেতরে ও সামনের ফুটপাতে বসেছে একাধিক অস্থায়ী দোকান। আবার বাগানের উত্তারাংশে কিছু অংশ পুলিশ ব্যবহার করছে। দক্ষিণ পাশে বড় অংশজুড়ে সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ চলছে। একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের সংস্কার কাজও চলছে ঐতিহাসিক এই মুক্তাঙ্গনে। ডিএসসিসি সূত্র জানায়, প্রায় ০.৮৩৫ একর জমির উপর সিটি কর্পোরেশনের মালিকানায় এই পার্কটি মাইক্রোবাস মালিকরা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। দখলদারদের উচ্ছেদ করলেও আবার দখল হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, এই অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার জন্যই মুক্তাঙ্গনে ময়লা রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পার্কটি সংরক্ষণের জন্য দেয়াল নির্মাণ করা হলে তা ও ভেঙে ফেলা হয় বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
    অপর একটি সূত্র জানায়, মুক্তাঙ্গনে গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা বেশ কয়েকবছর ধরেই চলছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন মুক্তাঙ্গন দখল করে ব্যবসা শুরু হয়। এরপর থেকে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের নেতা-কর্মীরাই নিয়ন্ত্রণ করে এলাকাটি। আশপাশে থাকা বেশকিছু গাছ পরিকল্পিতভাবে কেটে ফেলছে দখলদাররা। মুক্তাঙ্গনে পার্কিং করা গাড়ির একাধিক ড্রাইভারের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাইক্রোবাস পার্কিংয়ের জন্য একশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে ঢাকা মাইক্রোবাস ও কার মালিক সমিতি। আর নতুন কেউ এখানে গাড়ি নিয়ে গেলে রেজিস্ট্রেশন করতে লাগে ১০ হাজার টাকা। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয় না এখানে। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, একটা সময় মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার ছিল। তা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
    মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মুক্তাঙ্গন যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার বাস্তবায়ন দরকার। তবে, এ বিষয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগ আপাতত কিছু ভাবছে না বলে জানায় দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
    আশির দশক থেকে শুরু করে এই মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হওয়া অনেক সভা-সমাবেশ দেশের বিভিন্ন পট-পরিবর্তনের স্বাক্ষী। যুক্তরাজ্যের হাইড পার্কের চিন্তাধারা থেকে এই মুক্তাঙ্গনের উৎপত্তি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ১৯৭৯ সালে স্বাধীন মতপ্রকাশের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এই মুক্তাঙ্গন। সম্পাদনা : পরাগ মাঝি

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *