রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর বাহার কাছনা মুদিখানা এলাকার শাপলা বেগম (৫০) আনমনে বসে শপিং ব্যাগ তৈরির কাজ করছেন। ব্যাগ তৈরির ফাঁকে তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি শপিং ব্যাগ তৈরি করে বাড়তি আয় করে থাকেন। এবার রমজানের আগেই ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। গতবারের চেয়ে এবার ঈদ তাদের ভালোই কাটবে বলেও তিনি আশা করছেন। আলপনা বেওয়া (৪৭) মানুষের বাসায় কাজ করেন। তিনিও ৪ বছর ধরে শপিং ব্যাগ তৈরিতে নেমেছেন। সারাবছরই এ কাজ করেন। রমজানে একটু বেশি শ্রম দেন। তিনি দিনে ৫ শতাধিক ব্যাগ দিনে তৈরি করেন।
শাপলা, আলমনার মতো বাহার কাছনা ও আশপাশ এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক নারী শপিং ব্যাগের কাজ করে সংসারে বাড়তি যোগ দিচ্ছেন। এ আয়ে অনেক নারী তার সন্তানের লেখাপড়ার খরচের পিছে ব্যায় করছেন। তাজুল প্যাকেজিংয়ের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, কাগজ-আঠা-সূতাসহ অন্যান্য যাবতীয় উপকরণ তিনিই দিয়ে থাকেন। নারীরা শুধু তৈরি করে দেন। তারা ৫শ ব্যাগ তৈরি করে ১শ টাকা পান। মজিদ মার্কেটে তার কারখানার অধীনে ৬০ জন নারী রয়েছে।
নগরীর সেন্ট্রাল রোডের শহীদ মুসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাসের গলিতে রয়েছে মাইদুলের প্যাকেজিং কারখানা। তার এ কারখানায় দুইজন কর্মচারী আছে। সবমিলে দিনে প্রায় ৫ হাজার ব্যাগ তৈরি হয়। রমজান মাসে তার চাহিদা বেড়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, রংপুর মহানগরীর পাশাপাশি লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে তার অর্ডার আসে। তারা ৫ আইটেমের ব্যাগ তৈরি করেন। কাগজ ভেদে এক হাজার ব্যাগ তৈরিতে ১২শ টাকা থেকে ২৫শ টাকা নিয়ে থাকেন। মাইদুলের মতো নগরীর শতাধিক ব্যবসায়ী বাহার কাছনা ও আশপাশ এলাকার ৫ শতাধিকেরও বেশি নারীদের এ কাজে লাগান। দিন দিন এ কাজে নারীর সংখ্যা বেড়ে চলছে।
Amader Orthoneeti is a news portal. it's a voice of people.