সুন্দরবনে ৩ বছরে বনদস্যুদের হাতে ২শ জেলে নিহত

    বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনে বাগেরহাটের চাঁদপাই ও শরণখোলা, পশ্চিশ সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১৬টি বনদস্যু বাহিনী। এই বনদস্যু দলগুলোর হাতে মুক্তিপণের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই অপহৃত হচ্ছে হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালী।
    গত ৩ বছরে র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এসব বাহিনীর অন্তত ৯ জন বনদস্যু বাহিনী প্রধানসহ ৭৯ জন বনদস্যু আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে মারা গেলেও থামেনি দস্যুতা। পরে ওই সব বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডাররা পুনরায় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের নামে বাহিনী গড়ে পুরোদমে জেলে অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে যেতে থাকে। এ কারণে কমছে না সুন্দরবনের দস্যু বৃত্তি। ৩ বছরে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে প্রায় ২শ জেলে। আর এসব বাহিনীর হাতে প্রতিবছর গড়ে অপহৃত হয় ১ হাজার জেলে-বনজীবী। অপহৃতদের বেশির ভাগই মোটাঅঙ্কের টাকার বিনিময়ে মুক্তি পান। সুন্দরবনের দুবলার ফিসার ম্যান গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বনদস্যুরা প্রায় ২ লাখ জেলে ও বাওয়ালীদের কাছ থেকে মুক্তিপণের দাবিতে আদায় করছে ৫০ কোটি টাকা। আর মুক্তিপণ না পেলে বনদস্যুদের হাতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে অসংখ্য জেলে-বনজীবীদের। জানা গেছে, পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের ৪টি রেঞ্জে বর্তমানে ১৬টি বনদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
    বাহিনীগুলো হলো, আমজাদ বাহিনী, ফরহাদ বাহিনী, শহিদুল বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী, জাকির বাহিনী, রুবেল বাহিনী, বাকিবিল্লাহ বাহিনী, মুর্তজা বাহিনী, আনোয়ার বাহিনী, মাহবুব বাহিনী, তছলিম বাহিনী, নাসির বাহিনী, জিহাদ বাহিনী, জুলফিকার আলী গামা বাহিনী, দুই ভাই বাহিনী ও রেজাউল ওরফে শীর্ষ বাহিনী।
    সুন্দরবনে বনদস্যুদের মধ্যে বর্তমানে ৬টি বাহিনী বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রযেছে।
    পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনরে বনরক্ষীদের চেয়ে বনদস্যুদের রয়েছে অত্যাধুনিক দেশি-বিদেশি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। সুন্দরবনের দুবলা ফিসার ম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সুন্দরবন অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন জানান, তার কাছে তথ্য রয়েছে কয়েকটি বনদস্যু বাহিনী মৌলবাদি ও চরমপন্থীদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় থাকা এসব বনদস্যু বাহিনীগুলোর গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনা গেলে সুন্দরবনের দস্যুবৃত্তি কখনই বন্ধ হবে না।
    উপকূল মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী জানান, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকা কেন্দ্রিক দস্যুদের চাঁদা দিয়েই মাছ ধরতে যেতে হচ্ছে জেলেদের। আর চাঁদা দিতে অপারগ হলে মুক্তিপণের জন্য তাদের অপহরণ করা হচ্ছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *