নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা এই বাজেটকে বাস্তবমুখী জাতীয় অগ্রগতি অর্জন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সহায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
গতকাল সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শেষে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।গত ২ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার ৭ম দিনে আজ সরকারী দলের এম এ মালেক, মো. ইউনুস আলী সরকার, বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, ইলিয়াসউদ্দীন মোল্লা, মোতাহার হোসেন, বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, বেগম রহিমা আক্তার, গোলাম মোস্তফা, আবদুল মালেক, এডভোকেট নাভানা আক্তার, বেগম আখতার জাহান, গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস,শামসুন্নাহার বেগম ও জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন অংশ নেন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, গণমুখী এবং প্রগতির লক্ষ্যে এবারের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বাজেট মানুষের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার। সমগ্র জাতির মধ্যে এই বাজেট প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
তারা বাজেট সমালোচনার জবাবে বলেন, এযাবৎকালে এটি সর্ববৃহৎ বাজেট। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন ৯৮ শতাংশ। অন্যান্য সরকারের ৮৮ শতাংশের উপরে ছিল না। এতেই প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ সরকারই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখে। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপের ফলে দেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। বৈশ্বিক মন্দার পরও সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই সরকার খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও বর্তমানে দেশ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দলীয় ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখন বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত বলে তারা উল্লেখ করেন।
সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, মুসলমানদের শত্রু ইহুদী ইসরাইলীদের সহযোগিতায় বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু ক্ষমতার মালিক একমাত্র দেশের জনগণ, কোন বিদেশী শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। তারা বলেন, নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে।
অপর দিকে বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে নারী নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
তারা প্রস্তাবিত বাজেটে মেডিটেশনের উপর আরোপিত কর প্রত্যাহার এবং সিগারেটের উপর আরোপিত কর আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
তারা একটি দিক নির্দেশনামূলক ও জনকল্যাণমূলক বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। সম্পদনা : হাসান আরিফ
উচ্চাভিলাষী বলে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে অনেকের সমালোচনার জবাবে তারা বলেন, এই বাজেট অবশ্যই উচ্চাভিলাষী। কারণ উচ্চাভিলাষ না থাকলে মানুষ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। অর্থমন্ত্রী বারবার উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়েছেন বলেই দেশ অগ্রগতির শীর্ষে অবস্থান করছে। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হবে।
সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
Amader Orthoneeti is a news portal. it's a voice of people.