নিয়ন্ত্রণে আসছে না রাজধানীর যানজট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা

    সুজন কৈরী : রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ কাজে আসছেনা। গত কয়েকদিন ধরে যানজটের ভয়াবহতা বেড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে এর প্রভাব পড়ায় চরম বিপাকে পড়ছে নগরবাস্।ী
    গতকাল শনিবার সকাল বেলা ১১ টায় একটি চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে মতিঝিলের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা সুমনের। নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা আগেই বাসা থেকে রওনা দিয়েও যথাসময়ে পৌছতে পারেননি তিনি। মিরপুর থেকে মতিঝিলে পৌছাতে তার সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা।
    সুমনের মতো অসংখ্য মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। যানজটের ‘ভয়ে’ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাত বা পারিবারিক-সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলছেন অনেকে। ঢাকার প্রায় প্রতিটি সড়কেই চলতি পথে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যানজটের কবলে পড়ে পরিবহনগুলোতে পোড়াতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি। আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন পথচলায় কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও এখন আর সে অবস্থা নেই। অফিস সময়ের আগে পরে এমনকি রাতেও লেগে থাকে যানজট। একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৩ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে যানজটে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে যানজট যেন ততই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, রমজান মাসে একই সময়ে অফিস চালু হওয়া, ইফতারের আগমুহুর্তে ব্যবসায়ী ছাড়া সব মানুষের বাসায় ফেরার ব্যস্ততা থাকায় এ সময়টিতে রাজধানীর প্রতিটি সড়কেই প্রচুর যানবাহনের চাপ থাকে। তাছাড়া বাসস্ট্যান্ড, বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন অবৈধভাবে পার্ক করে রাখার ফলেও যানজট বাড়ে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত রাস্তা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অধিক জনসংখ্যা, শহরমুখী মানুষের চাপ, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জড়িত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, গণপরিবহনের অভাব এবং একই রাস্তায় বিভিন্ন গতিবেগের গাড়ির চলাচলই যানজটের কারণ। নগর বিশেষজ্ঞদের কিছু সুপারিশ : লেন ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন, ট্রাফিক পুলিশের যথাযথ দায়িত্ব পালন, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পথচারীদের পারাপার নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, অ-অনুমোদিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধকরণ, পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত দখল মুক্ত রাখা, আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক চাপ বন্ধ করা, রাস্তায় গাড়ি পার্কি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং অফিস সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা আড়াইটা, স্কুল-বিদ্যালয় সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা ও ব্যাংক সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুরু ও শেষের ব্যবস্থা করা।
    ট্রাফিক পুলিশের উত্তর জোনের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিনিয়র এসি আবু ইসুফ বলেন, অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় রমজান মাসে রাজধানীতে যানজট বৃদ্ধি পায়। তবে পুলিশও এ সময়টিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এছাড়া সড়কে দোকানপাট বসানোর কারণেও যানজট বাড়ে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে মার্কেট, পেট্রোল পাম্প, বাস মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা যে যার মতো করে সহযোগীতা করছেন। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহযোগীতায় যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের ক্রাইম বিভাগের সহযোগীতায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণেও সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে অন্য সড়কগুলোতেও। পুলিশ সাধ্যমতো যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *